Header Ads

সর্বানী বেগমের একটি গল্প 'পামেলা'

পামেলা

সর্বানী বেগম

কাঁচের দরজা ঠেলে ঢুকলো পামেলা৷ সোফায় বসতে বসতেই জিজ্ঞাসা করল, "কেমন আছিস? ব্যস্ততা নেইতো?"
আমি ঘাড় নেড়ে বললাম, "না না৷ দুপুরে ফাঁকাই আছি৷ মুখের কী হাল হয়েছে! আয়, তোকে ফেসিয়াল করে দিই৷"
কথা শেষ হতেই অল্পবয়সী এক কাস্টমার ঢুকলো৷
--- কেমন আছো?
--- ভালো৷
--- তুমি ভালো আছতো?
--- হ্যাঁ৷
--- কী করবে?
--- লরিয়্যালের হেয়ার স্পা৷
--- সমস্যা?
--- হেয়ার ফল৷
খোঁপার ক্যাচার দুটো খুলে দিতেই এক ঢাল রেশমি কালো চুল নেমে গেল হাঁটু পর্যন্ত৷
সত্যি চুল গুলো অপূর্ব৷ মেয়েরা দেখলে ঈর্ষা করবে আর ছেলেরা হয়তো ড্যাবডেবিয়ে তাকিয়ে থাকবে৷
পামেলা ফট করে বলে ফেললো--- " তোমারতো চুলের গোছ অনেক, দু' চারটে পড়ে যায় যাক না৷ বাজে খরচ করে কী হবে!"
আমি খেপে গিয়ে বলে উঠলাম, " তুই এখন বিদেয় হ তো৷"
--- ফ্রিতে ফেসিয়াল করে দিবি না?
--- চুপ করে বসবি একটাও কথা বলবি না৷
আমার কাছে বকা খেয়ে চুপচাপ মোবাই স্কেচ করতে শুরু করলো পামেলা৷
পামেলা এমনই ঠোঁটকাটা আর খামখেয়ালি মেজাজের৷ রবীন্দ্রভারতীতে পড়ার সময় দমদমের সাবওয়েতে বসে কিছু দিন একটা বাচ্চাকে আঁকা শিখিয়েছিল৷ আঁকা ওর প্রাণ৷ আমিতো রবীন্দ্রভারতীর ডিগ্রি নিয়ে এখন মায়ের পার্লার সামলাচ্ছি৷ একটিা বুটিক খুলেছি৷ পামেলা চলেগেল শান্তিনিকেতন৷ ওর শেখা আর চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে৷ বাড়িতে এলেই দেখা করে৷আমরা হাই স্কুল থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত এক সাথে পড়েছি৷ বড্ড পাগলাটে৷ একবার কোথ্থেকে এক বিড়াল ছানা নিয়ে আমার বাড়িতে হাজির হয়েছিল৷ বিড়ালের পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা৷ ওর স্কুটিতে ধাক্কা খেয়েছিল৷ তাই ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে এসেছিল৷বলেছিল, " এক সপ্তা রাখ৷ ওর পাটা একটু ঠিক হোক তারপর ছেড়ে দিস৷ জানিসতো মা বিড়াল পছন্দ করে না৷ আন্টিতো খুব ভালো৷ আন্টি কিছু বলবে না৷ ওকে তুই কিটি বলে ডাকতে পারিস৷ নামটা ভালো না রে?" আমি প্রচন্ড বিরক্ত হয়েছিলাম এবং বিড়ালটাকে রাখিনি৷ পরে ও কী করেছিল জানিনা৷বড় অদ্ভুত! একবার আড্ডায় রাহুল যেই বলেছিল, " পামেলা, তোর নেটটা অন করতো একটু৷" অমনি সে বলে বসলো, " আহ্, কী খাওয়া যায় তাই ভাবছিলাম৷ চ, চিকেন ইন্টারনেট খাবো৷" আমরা পাচঁজন বন্ধুু মিলে সেদিন পামেলার পয়সায় চিকেন ইন্টারনেট খেয়েছিলাম৷ আমাদের অনেক নিডি বন্ধুদের ও হেল্প করত৷ এখনো করে৷ শান্তিনিকেতনে গিয়েও নিশ্চয় করে৷

ভাবতে ভাবতে হাতের কাজটা শেষ হয়েগেল৷ কাস্টমার বিদায় করে পামেলার ফেসিয়াল করলাম৷ যাওয়ার আগে আমার গালে একটা চুমু দিয়ে বলেগেল, "ভালো থাকিস৷"
পরদিন, সকালে পেপার খুলে চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না৷ পামেলা আত্মহত্যা করছে৷ একটা নোট রেখেগেছে৷ তাতে লেখা, "আমি পাবলো পিকাসো না৷ আমি মাদার টেরেসা না৷ আমি সাধারণ মানুষ তাও না৷ তবে কে আমি? পৃথিবীতে আমার কী দরকার????"
চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না৷ হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলাম আর মনে মনে বলতে থাকলাম, " আমার তোকে খুব দরকার৷ এই পৃথিবীর তোকে খুব দরকার৷ তুই ফিরে আয়.....।

No comments

Powered by Blogger.