Header Ads

সর্বানী বেগম -এর একটি অণুগল্প 'পামেলার আত্মসংকট'


পামেলার আত্মসংকট
সর্বানী বেগম 

পামেলার সুইসাইডাল নোটের কথা গুলো মাঝে মাঝেই মনে পড়ে৷ লিখেছিল, "আমি পাবলো পিকাসো নই৷ মাদার টেরিসা নই৷ আমি সাধারণ মানুষ তাও নই৷ তবে কে আমি? পৃথিবীতে আমার কী দরকার???" আসলে পামেলা আত্মসংকটে ভুগছিল৷ আমরা যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন পামেলার বাবা রবিন ডিসুজা এক নানকে বিয়ে করে বাড়ি ছাড়ে৷ ডিভোর্সের পর থেকেই খিটখিটে হয়ে যায় আন্টি৷ রেগে গেলেই বলতো, " তোকে ফেলে রেখে যে দিকে দু' চোখ যায় চলে যাবো৷" পামেলা খুব ভয় পেয়ে যেতো৷ আমিও ভয় পেতাম আন্টিকে৷ ক্লাস এইটে পড়ার সময় পামেলা একদিন স্কুলে এসে বলেছিল যে তার বাবা না কি বাড়িতে এসে ঝগড়া করেছিল তার মায়ের সঙ্গে আর চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলেছিল, পামেলা না কি তার সন্তান না৷ পামেলা সেদিন খুব কেঁদেছিল৷ আমি উৎকন্ঠিত হয়ে বলেছিলাম, "আচ্ছা, ডি. এন. এ টেস্ট করালেইতো হয়৷" পামেলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিল, " মামনি বলে, আঁক পামেলা আঁক৷ তোকে তোর বাপির মত বড় আর্টিস্ট হতে হবে৷ প্রমাণ করেদে তুই ওরই সন্তান৷ যত খরচ লাগে আমি দেব৷ তুই শুধু আঁকবি৷" পামেলা সব সময় আঁকতো৷ একেবারে ইউনিক আর্ট৷ প্রথাগত ব্যাপারটার ধার পাশ দিয়ে সে যেতে চাইতো না৷ ভার্সিটিতে টপার হতে পারেনি পামেলা৷ আন্টি খুব হতাশ হয়েছিল৷ এই হতাশা বোধ হয় পামেলাকেও গ্রাস করছিল৷ এই গড্ডালিকা প্রবাহে পামেলার মত একজন মৌলিক মানুষ আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভুগছিল৷ শান্তিনিকেতনে যাওয়ার আগে আমাকে বলেছিল, " আমিতো বাপির মত হতে পারছি না৷ তাহলে কি আমি বাপির মেয়ে না?" আমি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম৷ বলেছিলাম, " ফালতু বকিস না৷ মন দিয়ে আঁক৷ তোর আঁকা বিশ্ববিখ্যাত হবে৷ এখনি একটা অটোগ্রাফ দিয়ে যা৷" শান্তিনিকেতনে গিয়েও হয়তো শান্তি পায়নি পামেলা৷ ওর মৌলিক চিন্তা সমাদৃত হয়নি৷ওর আত্মসংকট ওকে তিষ্ঠোতে দেয়নি৷ কিন্তু ও জানে যে ওর মৃত্যুর পর ওর বাপি খুব কেঁদেছিল৷ ওহ্ গড! ও কি জানে ওর বাপি ওর নামে একটা আর্ট গ্যালারি করেছে মুম্বাইতে!  

No comments

Powered by Blogger.