Header Ads

আত্মহনন বিরোধী দিবসে কবি ইন্দ্রাণী দাসের একটি কবিতা 'প্রাণই এক আশ্চর্য সম্পদ'

 কবি ইন্দ্রাণী দাস 


(আত্মহনন বিরোধী দিবসে আমার নিবেদন) 


 প্রাণই এক আশ্চর্য সম্পদ 
ইন্দ্রাণী দাস 

এত বড় আকাশটাকে চিনিয়ে দিতে ভুল হল
তাই খোলা জানালায় একমুঠো রোদ উঁকিঝুকি দিয়ে
অনন্ত অন্ধকার নামিয়ে
কোথায় যে গা ঢাকা দিল কে জানে,
ভোরের ঝরে পড়া শিউলির মত
তোমার কোমল অপুষ্ট মনে এলোমেলো চিন্তার আলোড়ন
দিকভ্রষ্ট করেছে তোমাকে বারংবার
তোমার চারপাশের পৃথিবী
ক্রমাগত ছোট হতে হতে বন্দি করেছে তোমাকে
কয়েক জিবি ডিজিটাল বিশ্বে
যেখানে যখন তখন হানা দেয় ব্লু হোয়েল, পোকেমন গো।
তুমি তখন আত্মনিয়ন্ত্রনের সীমা পেরিয়ে
কিউরেটরের হাতের পুতুল, এগিয়ে চলেছো আত্মহননের দিকে।
মাথার উপর খোলা আকাশ, পায়ের নীচে সীমাহীন উচ্চতা
তবু তুমি উদ্ধত অহংকারে গলা তুলে বলতে পারোনি,
আমি বাঁচতে চাই।
সদ্য চোখ মেলে যেদিন পৃথিবীর আলো দেখে
হঠাৎ চিৎকার করে জানালে তোমার উপস্থিতি
সেদিন খোলা ছিল তোমার মনের সববকটি জানালা
তারপর পৃথিবীর জল হাওয়া বাতাসে ধীরে ধীরে
বন্ধ হতে লাগল তোমার প্রতিটি যুক্তিপূর্ণ কুঠুরি।
কেবলমাত্র একটিই জানালা ছিল খোলা
সেখান থেকে আলো নয় শুধু অন্ধকারের প্রবেশ
আর তারপর সেই চরম সিদ্ধান্ত।
কিন্তু কেন?
কেন আমরা দিতে পারিনি সেই পরিবেশ
যেখানে পল্লবিত হয় জীবন?
কী ছিল সেই মেয়েটির মনে যে চলে যেতে চাইল?
কী চেয়েছিল সেই সফল ছেলেটি
শেষবারের মত মুখোমুখি দাঁড়িয়ে?
হয়ত ওরা বুঝতে চেয়েছিল সেই ‘বিপন্ন বিস্ময়’
যা ‘আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে,
আমাদের ক্লান্ত করে’
হয়ত ওরা ভেবেছিল, ‘লাশকাটা ঘরে সেই ক্লান্তি নাই’
তবু শেষবার নিভে যাবার আগে
হঠাৎ যদি বিদ্রোহ করত ওদের ক্লান্ত মন
তবে ভাবতে পারত, 
‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে
শুধু প্রাণই এক আশ্চর্য সম্পদ
এক ক্ষয়হীন আশা
এক মৃত্যুহীন মর্যাদা।’

No comments

Powered by Blogger.