Header Ads

সর্বানী বেগমের একটি অণুগল্প 'দই-ফুচকা'



দই -ফুচকা
সর্বানী বেগম

খেতে খেতেই খবরটা এল৷ মুখ নামিয়ে মাছের ঝোল মাখা ভাত খেতে থাকলো ধীরে সুস্থে৷ খবর দিয়েই মা চলে গেল গোসল করতে৷ চটপট হাতের কাজ গুছিয়ে নিয়ে রওনা হতে হবে৷ আসর বাদ মাটি হবে৷ এখন বাজে একটা পাঁচ৷ সাহিন খেয়ে উঠে থালা-বাসন ধুয়ে একবার ফেসবুকে চোখ বোলাতে লাগলো৷ মায়ের তাড়ায় দ্রুত রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ল মায়ের সঙ্গে৷
 
অটোতে যেতে যেতে সাহিন তার মায়ের কথার জবাবে বলল, 'এই আত্মহত্যা ঘটারই ছিল৷ অন্তত সাইকোলজিতো তাই বলে৷ এর আগেও পারভীন দু' বার চেষ্টা করে বেঁচে গেছে৷' জ্বলে উঠল মা, 'রাখতো তোর সাইকোলজি!' চুপ করে বসে ভাবতে থাকলো সাহিন৷ পারভীনের মনরোগের চিকিৎসা যে ঠিক মত হচ্ছে না এ কথা সে অনেক বার বলেছে মামা-মামীকে৷ তারা কান দেয়নি৷ অনান্য রোগের মত মনরোগও যে এক প্রকার রোগ এ সম্পর্কে সচেতনতাখুব কম৷ সাহিন সাইকোলজি নিয়ে অনার্স পড়ছে৷কিন্তু পরিবারের কেউই তার কথাকে পাত্তা দেয় না৷ অথচ পরিবারের সকলেই শিক্ষিত!
মায়ের ঠেলায় সজাগ হয়ে অটো থেকে নামল সাহিন৷ বাজার পেরিয়ে গলি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে পারভীনকে ঘিরে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল৷ কাফোন মোড়া পারভীনের মুখ দেখে ডুকরে ডুকরে কাঁদলো৷ মাকে রেখে ফেরার পথে বাজারে দাঁড়িয়ে দই -ফুচকা খেলো সাহিন৷
 
অটোয় চোড়ে পথে সাহিনের মনে হল, সে কি খুব যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে? মামাতো বোনের অকাল মৃত্যু আর দই ফুচকাটা ঠিক খাপ খায় কি? কিন্তু ঐ কান্না যতটা খাঁটি ঠিক ততটাই খাঁটি দই -ফুচকার স্বাদ! প্রবল একটা দীর্ঘশ্বাস বয়ে গেল স্নায়ু বেয়ে৷ অটো থেকে নেমে অন্ধকারে টর্চ জ্বেলে হাঁটতে থাকলো সাহিন৷

No comments

Powered by Blogger.