Header Ads

তৈমুর খান -এর তিনটি কবিতা

         



  তৈমুর খানের তিনটি কবিতা
                      চরিত্রহীনা
                    ___________
উন্মাদিনী শহরের বিকল্প বুঝিনি
যদিও ফুটপাথকে ভেবেছি ব্যালকনি

যান্ত্রিক পুতুল সব, আলো আলো ঘোর
হৃদয় নেই যদিও, তবু হৃদয় চোর

কোলাহলে ডুবে যাচ্ছে ভাবনার হাঁস
থইথই ব্যস্ততায় কীসের উল্লাস ?

ডাইনে বাঁয়ে সংকেতের বাঁশি
লালে নীলে ঝরছে আলোর হাসি

কেউ ধরে না হাত
হাতের মাঝে প্রাণভোমরা লুকোচ্ছে বিষাদ

রাস্তা শুধু রাস্তা মেপে দিন যাচ্ছে রাতে
এশহর চরিত্র হারায় পরপুরুষের সাথে



 মনুষ্যবর্জিত দেশ
              __________________
তিরিক্ত মেদ শরীর রাখবে কোথায় ?
কোমর ধরে ঝুলে আছে ওরা
বুক আর পেট জুড়ে একী অসভ্যতা
দেখতে দেখতে গ্রাম হারাল
শহর তোলপাড় করছে সভ্য জন্তুরা

বিবেক কিনতে এসেই ধাঁধা
কত রঙিন বিবেকেরা
ঘুরে বেড়াচ্ছে, বক্তৃতা দিচ্ছে
মঞ্চে মঞ্চে হাততালির ফোয়ারা  !

কোন পতাকায় ছায়া আছে
কার ছায়াতে গেলে
দু'দণ্ড শান্তি মেলে
কোথায় আছে স্নিগ্ধ বনলতারা ?

চারিপাশেই ফুটছে কুসুম, জুটছে অলি
উড়ছে কত ডানাওয়ালা রসিক ভোমরা

দেখতে দেখতে রাস্তা আঁধার, বিবেক নেই
মনুষ্য বর্জিত দেশে উড়ছে যুদ্ধের পতাকারা


                 বিরহপুর
         ______________
সমস্ত জীবন ধরে আমারই প্রেমের কাহিনি
এতদিন যা বলেছি অথবা বলিনি
কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন , কিছুটা ঝলমল
আলো আঁধারিতে মাখামাখি
কিছুটা শিশির বিন্দু, কিছুটা অশ্রু টলমল

সন্ধ্যার চাঁদ থেকে ভোরের চাঁদ
মাঝখানে নিস্তব্ধতা, হয়তো জাগরণ রাখা
হয়তো নতুন স্বপ্নকথা
স্বপ্নকথায় ঘুমিয়ে পড়া রাত

হেমন্তের শীত , বসন্তের ধুলো
চিঠি লিখে গেছে বারোমাস
সেসব বাংলার ৠতুগুলো
কল্পনার পাখি চলে গেছে উড়ে
সন্ধ্যা নেমেছে মহাশূন্য ঘিরে

সে আসেনি, তার শুধু ঘ্রাণের নূপুর
উথাল পাথাল করে গেছে
আমার আবহমান বিরহপুর...

No comments

Powered by Blogger.